মারা গেছেন শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামের ভেন্যু ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে অনশন করা সেই যুবক 

#
news image

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের ভেন্যু বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনকারী হুমায়ুন আহমেদ রুমেল (৩২) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সকালে বগুড়া শহরের নাটাই পূর্বপাড়ার পৈতৃক বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।

হুমায়ুন আহমেদ রুমেল নাটাই পূর্বপাড়ার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও বানিয়ে ‘চ্যানেল বগুড়া টিভি’ নামের ফেসবুক পেজে প্রচার করতেন। সবশেষ গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বগুড়ার বিমানবন্দর চালুর দাবিতে ঈদের পর অনশন কর্মসূচিতে বসবেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাকরির কারণে রুমেলের তিন ভাই বগুড়ার বাইরে থাকেন। রুমেল নাটাই পূর্বপাড়ায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন।

বুধবার রাত ১১টা ৪২ মিনিটে চ্যানেল বগুড়া টিভি ফেসবুক পেজে রুমেল লিখেছেন, ‘জীবনের প্রথম ও শেষ স্মৃতি প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এর আগে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে একই পেজে তিনি লিখেছেন, ‘বগুড়ার বিমানবন্দর চালুর দাবিতে আমরণ অনশনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঈদের পরই শুরু হবে আন্দোলন।’

স্বজনরা জানিয়েছেন, রুমেল অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অসুস্থবোধ করছিলেন। সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। 

রুমেলের খালাতো বোন রুমি বেগম বলেন, ‘রুমেল অবিবাহিত ছিলেন। বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকতেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় বুকব্যথা ওঠে। হাসপাতালে নেওয়ার আগে রুমেল বাড়িতেই মারা যান। বাদ জোহর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।’

গত ৫ মার্চ শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম থেকে বিসিবির লোকবল প্রত্যাহারসহ ভেন্যু বাতিলের প্রতিবাদে এবং স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফেরানোর দাবিতে শহরের সাতমাথায় কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেন রুমেল। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর ভেন্যু ফেরানোর বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেন তিনি। 

একই দাবিতে ১৮ মার্চ শহরের সাতমাথা এলাকায় গায়ে কাফনের কাপড় এবং হাত ও গলায় শিকল পরে ফুটপাতে অনশন কর্মসূচিতে বসেন রুমেল। ওই দিনই তার অনশন ভাঙান সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে দ্বন্দ্বে স্টেডিয়ামের মূল মালিক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছে স্টেডিয়ামটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২ মার্চ এনএসসি সচিবকে পাঠানো বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্টেডিয়ামটি হস্তান্তরের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এরপর ওই দিনই শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে কর্মরত বিসিবির ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তীকালে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বদলি করা হয়। 

এরপর স্টেডিয়ামে থাকা রোলার, পিচ কভারসহ মাঠ ও খেলার যাবতীয় সরঞ্জাম এবং ড্রেসিংরুমের আসবাব ঢাকায় নিয়ে যায় বিসিবি। ভেন্যু বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে আন্দোলন ও দাবির মুখে ৮ এপ্রিল শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের ভেন্যু বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বিসিবি।

 

জেলা সংবাদদাতা

২০ এপ্রিল, ২০২৩,  11:21 PM

news image

বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের ভেন্যু বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে অনশনকারী হুমায়ুন আহমেদ রুমেল (৩২) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল) সকালে বগুড়া শহরের নাটাই পূর্বপাড়ার পৈতৃক বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন তিনি।

হুমায়ুন আহমেদ রুমেল নাটাই পূর্বপাড়ার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ভিডিও বানিয়ে ‘চ্যানেল বগুড়া টিভি’ নামের ফেসবুক পেজে প্রচার করতেন। সবশেষ গত মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে ঘোষণা দিয়েছিলেন, বগুড়ার বিমানবন্দর চালুর দাবিতে ঈদের পর অনশন কর্মসূচিতে বসবেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চাকরির কারণে রুমেলের তিন ভাই বগুড়ার বাইরে থাকেন। রুমেল নাটাই পূর্বপাড়ায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন।

বুধবার রাত ১১টা ৪২ মিনিটে চ্যানেল বগুড়া টিভি ফেসবুক পেজে রুমেল লিখেছেন, ‘জীবনের প্রথম ও শেষ স্মৃতি প্রতিটি মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এর আগে মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টার দিকে একই পেজে তিনি লিখেছেন, ‘বগুড়ার বিমানবন্দর চালুর দাবিতে আমরণ অনশনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঈদের পরই শুরু হবে আন্দোলন।’

স্বজনরা জানিয়েছেন, রুমেল অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। প্রচণ্ড গরমের কারণে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে অসুস্থবোধ করছিলেন। সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। 

রুমেলের খালাতো বোন রুমি বেগম বলেন, ‘রুমেল অবিবাহিত ছিলেন। বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকতেন। অতিরিক্ত গরমের কারণে সকালে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় বুকব্যথা ওঠে। হাসপাতালে নেওয়ার আগে রুমেল বাড়িতেই মারা যান। বাদ জোহর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।’

গত ৫ মার্চ শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম থেকে বিসিবির লোকবল প্রত্যাহারসহ ভেন্যু বাতিলের প্রতিবাদে এবং স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ ফেরানোর দাবিতে শহরের সাতমাথায় কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেন রুমেল। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর ভেন্যু ফেরানোর বিষয়ে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেন তিনি। 

একই দাবিতে ১৮ মার্চ শহরের সাতমাথা এলাকায় গায়ে কাফনের কাপড় এবং হাত ও গলায় শিকল পরে ফুটপাতে অনশন কর্মসূচিতে বসেন রুমেল। ওই দিনই তার অনশন ভাঙান সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সঙ্গে দ্বন্দ্বে স্টেডিয়ামের মূল মালিক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কাছে স্টেডিয়ামটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ২ মার্চ এনএসসি সচিবকে পাঠানো বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্টেডিয়ামটি হস্তান্তরের এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এরপর ওই দিনই শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে কর্মরত বিসিবির ১৭ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তীকালে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বদলি করা হয়। 

এরপর স্টেডিয়ামে থাকা রোলার, পিচ কভারসহ মাঠ ও খেলার যাবতীয় সরঞ্জাম এবং ড্রেসিংরুমের আসবাব ঢাকায় নিয়ে যায় বিসিবি। ভেন্যু বাতিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অনশন কর্মসূচি পালিত হয়। পরে আন্দোলন ও দাবির মুখে ৮ এপ্রিল শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচের ভেন্যু বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বিসিবি।