শিরোনামঃ
জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান নিরাপত্তাহীনতায় জনজীবন, কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে একনেক সভায় ১ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার ১২ প্রকল্পের অনুমোদন  ইউরোপের পথে প্রতারণা, দালালের ফাঁদে স্বপ্ন এখন বন্দিশালা!  গণতন্ত্র রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতি প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউপি ভোট ১২ নভেম্বর, সাত ধাপে নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝিতে শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন লাইসেন্স ছাড়া করা যাবে না কোনো খাদ্য ব্যবসা ইউনিয়ন পরিষদ দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে : ইসি আনোয়ারুল দীর্ঘ সময় এসি চালালে যেসব ভুল করবেন না

মধ্যরাতে ইবির চিকিৎসা কেন্দ্রে ভাংচুরের অভিযোগ

#
news image

মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চিকিৎসা কেন্দ্রের জরুরি বিভাগ ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্য ও তার দুই সহযোগী এই ভাংচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুর রহমান মিল্টন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন চীফ মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুল ইসলাম।

চিকিৎসা কেন্দ্র সূ্ত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বুকে ব্যাথার চিকিৎসা নিতে রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন৷ পরে চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ব্যাথার ইনজেকশন দিলে কাব্য চলে যান। কিন্তু এর ঠিক আধঘণ্টা পর আবারও কাব্য ও তার সহযোগীরা চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন এবং কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্স সহায়তা চান। পরে চিকিৎসক ছাত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনা দেখে তাকে কুষ্টিয়া পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে, অ্যাম্বুলেন্স দিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় চিকিৎসা কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করেন রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্য। 

এদিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম সেলিম প্রশাসন ভবনের সামনে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তাদের সাথেও কাব্য অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। একপর্যায়ে রাত ১২ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা ইনচার্জ আব্দুস সালাম সেলিম বলেন, মেডিকেলে কাব্য জোর করে ডাক্তারের রেফার নিয়েছিল। তাই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসন ভবনের দিকে আমরা তাকে বাঁধা দিলে আমাদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে।

এদিকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও কাব্য কুষ্টিয়া যাননি বলে নিশ্চিত করেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক শাহীন। তিনি জানান, ‘কাব্য কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করলেও পরবর্তীতে লক্ষীপুর বাজারে থেকে একটি ডিসপেনসারি থেকে কিছু ওষুধ কিনে আবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বি.এম ছাত্রাবাসে ফিরে আসে।’

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুর রহমান মিল্টন বলেন, গতকাল ১০ জুলাই ঘটনার দেড় ঘণ্টা আগে বুকের ব্যাথার চিকিৎসা নিতে আসে কাব্য। তাকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে এর আধঘণ্টা পর আবার এসে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কুষ্টিয়া শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে চান কাব্য। এসময় অ্যাম্বুলেন্স কেন দ্রুত দেওয়া হচ্ছে না এই নিয়ে ভাংচুর চালান এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন কাব্য।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, 'আমি সকালেই চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। পরে উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার স্যারও এসে দেখে গেছেন। এরপর ইবি থানার ওসিকে জানানো হলে, তিনি পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করছেন। এছাড়া তিনি আরও বলেন, মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'

চীফ মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'সকালে প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, প্রক্টরসহ অনেকেই এসেছিলেন। আমরা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিচ্ছি। তারপর প্রশাসন যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।'

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুলাই মাসে মধ্যরাতে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রেজওয়ান সিদ্দিক কাব্য এক ট্রাক চালককে মারধর করে ছিনতাই করেন বলে জানা যায়। একইসঙ্গে তিনি মাদকের সাথেও জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কাব্য গণমাধ্যমকর্মীদের মারতে এলে দেশীয় অস্ত্রসহ (রাম দা) আটক হন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এসব ঘটনায় সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারও হন কাব্য।

মোঃ সাব্বির খান, ইবি

১১ জুলাই, ২০২৩,  9:56 PM

news image

মধ্যরাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) চিকিৎসা কেন্দ্রের জরুরি বিভাগ ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে এ ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্য ও তার দুই সহযোগী এই ভাংচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুর রহমান মিল্টন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন চীফ মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুল ইসলাম।

চিকিৎসা কেন্দ্র সূ্ত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে বুকে ব্যাথার চিকিৎসা নিতে রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন৷ পরে চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ব্যাথার ইনজেকশন দিলে কাব্য চলে যান। কিন্তু এর ঠিক আধঘণ্টা পর আবারও কাব্য ও তার সহযোগীরা চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন এবং কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্স সহায়তা চান। পরে চিকিৎসক ছাত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনা দেখে তাকে কুষ্টিয়া পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে, অ্যাম্বুলেন্স দিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় চিকিৎসা কেন্দ্রের জরুরি বিভাগে ভাঙচুর করেন রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্য। 

এদিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম ও প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম সেলিম প্রশাসন ভবনের সামনে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় তাদের সাথেও কাব্য অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা। একপর্যায়ে রাত ১২ টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা ইনচার্জ আব্দুস সালাম সেলিম বলেন, মেডিকেলে কাব্য জোর করে ডাক্তারের রেফার নিয়েছিল। তাই অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাওয়ার সময় প্রশাসন ভবনের দিকে আমরা তাকে বাঁধা দিলে আমাদের সাথেও খারাপ ব্যবহার করে।

এদিকে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও কাব্য কুষ্টিয়া যাননি বলে নিশ্চিত করেন অ্যাম্বুলেন্সের চালক শাহীন। তিনি জানান, ‘কাব্য কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা করলেও পরবর্তীতে লক্ষীপুর বাজারে থেকে একটি ডিসপেনসারি থেকে কিছু ওষুধ কিনে আবার বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বি.এম ছাত্রাবাসে ফিরে আসে।’

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ওয়াহিদুর রহমান মিল্টন বলেন, গতকাল ১০ জুলাই ঘটনার দেড় ঘণ্টা আগে বুকের ব্যাথার চিকিৎসা নিতে আসে কাব্য। তাকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়। তবে এর আধঘণ্টা পর আবার এসে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে কুষ্টিয়া শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে চান কাব্য। এসময় অ্যাম্বুলেন্স কেন দ্রুত দেওয়া হচ্ছে না এই নিয়ে ভাংচুর চালান এবং অ্যাম্বুলেন্স চালকের সাথেও খারাপ ব্যবহার করেন কাব্য।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ বলেন, 'আমি সকালেই চিকিৎসা কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। পরে উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার স্যারও এসে দেখে গেছেন। এরপর ইবি থানার ওসিকে জানানো হলে, তিনি পুলিশ পাঠিয়ে তদন্ত করছেন। এছাড়া তিনি আরও বলেন, মেডিকেল কর্তৃপক্ষকে রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।'

চীফ মেডিকেল অফিসার ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'সকালে প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, প্রক্টরসহ অনেকেই এসেছিলেন। আমরা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিচ্ছি। তারপর প্রশাসন যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।'

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের জুলাই মাসে মধ্যরাতে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের রেজওয়ান সিদ্দিক কাব্য এক ট্রাক চালককে মারধর করে ছিনতাই করেন বলে জানা যায়। একইসঙ্গে তিনি মাদকের সাথেও জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে কাব্য গণমাধ্যমকর্মীদের মারতে এলে দেশীয় অস্ত্রসহ (রাম দা) আটক হন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হলে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এসব ঘটনায় সেসময় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কারও হন কাব্য।