৭৩৭ ম্যাক্স জেটের উৎপাদন বাড়াবে বোয়িং

#
news image

২০২৫ সাল নাগাদ ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের উৎপাদন হার কভিড-১৯ মহামারী পূর্ববর্তী সময়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বোয়িং। ২০১৯ সালে প্রতি মাসে ৫২টি ম্যাক্স জেট উৎপাদন করত প্রতিষ্ঠানটি। দুটি বড় দুর্ঘটনা ও মহামারীর কারণে বোয়িংয়ের উৎপাদন অনেকাংশেই কমে গেছে। এ বিষয়ে অবগত দুই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, ২০২২ সালের জুনে ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের মাসিক উৎপাদন ৩৮-এ উন্নীত করে বোয়িং। ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে ৪২টি এবং জুনের মধ্যে ৪৭টি ম্যাক্স উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে কোম্পানিটি ২০২৫ বা ২০২৬ সালের মধ্যে মাসিক উৎপাদন ৫০টিতে উন্নীত করার কথা জানিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। বর্তমানে প্রতি মাসে ৩২টি ৭৩৭ ম্যাক্স জেট তৈরি করে বোয়িং। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের এ বহুজাতিক কোম্পানি।

দুর্ঘটনা ও কভিড-১৯ মহামারীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বোয়িংয়ের ম্যাক্স জেটের উৎপাদন বাড়ানো প্রতিষ্ঠান ও এর সিইও স্ট্যান ডিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মার্চে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন বর্তমানে মাসিক উৎপাদন ৩১ ইউনিট থেকে শিগগিরই বাড়ানো হবে। যদি তা সম্ভব হয় তাহলে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো উৎপাদন হার ৫২-তে উত্তীর্ণ হবে। মূলত সে সময় দুর্ঘটনার কারণে উৎপাদন কমিয়ে ৪২ ইউনিটে নামিয়ে আনা হয়েছিল। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানটি ম্যাক্স জেটের উৎপাদন আরো কমিয়ে দেয়।

২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে ৫২টি ম্যাক্স জেট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারলে ৪০ শতাংশ বাজার হিস্যা রক্ষা করতে পারবে বোয়িং। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপিয়ান প্রতিযোগী এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এ উদ্যোগ নিতেই হবে। কেননা এয়ারবাস তাদের উৎপাদন বাড়িয়েছে।

এয়ারবাস জানায়, প্রতিষ্ঠানটি চীনে নতুন উৎপাদন লাইন শুরু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ প্রতি মাসে ৬৫টি একক আইল জেট উৎপাদনের ব্যাপারে আশাবাদী। ২০২৬ সাল নাগাদ তা ৭৫ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা সংশ্লিষ্টদের।

এয়ার কনসালট্যান্সির একজন অ্যারোস্পেস বিশ্লেষক মিশেল মেরলুজেউ বলেন, ‘‌বর্তমান প্রেক্ষাপটে বোয়িংয়ের এ উদ্যোগকে কার্যকর মনে হচ্ছে।’

অন্যদিকে অ্যারোডায়নামিক অ্যাডভাইসরিজের অ্যারোস্পেস বিশ্লেষক রিচার্ড আবুলফিয়া বলেন, ‘‌এয়ারবাসের এ৩২১ নিও উড়োজাহাজের বিক্রি যদি বাড়ে, তাহলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বোয়িংয়ের বাজার হিস্যা আরো কমবে।’

তিনি বলেন, ‘‌বর্তমানে প্রতি মাসে ৫২ ইউনিটের বেশি ৭৩৭ ম্যাক্স জেট উৎপাদন করবে না বোয়িং এবং করার আগ্রহও নেই। তবে এয়ারবাস তাদের ৭৫ ইউনিট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে। মূলত এ৩২১নিওর মাধ্যমে এটি সম্ভব হবে।’

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বোয়িংয়ের সরবরাহ চেইনের বর্তমান পরিস্থিতি। প্রতিষ্ঠানটি কর্মী নিয়োগ দেয়া থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে মেরলুজেউ জানান, কর্মী নিয়োগের সমস্যা কাটিয়ে উঠছে বোয়িং। ফলে ৭৩৭ ম্যাক্সের উৎপাদন বাড়তে খুব একটা সময় লাগবে না।

বোয়িংয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহকারীরা উৎপাদনের বিষয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত পেয়ে থাকে। তবে মেরলুজেউ ও আবুলাফিয়া জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে ছোট সরবরাহকারীদের আর্থিকভাবে সুস্থ থাকার বিষয়টি বোয়িংয়ের নিশ্চিত করতে হবে।

নাগরিক অনলাইন ডেস্ক

১৩ এপ্রিল, ২০২৩,  8:01 PM

news image

২০২৫ সাল নাগাদ ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের উৎপাদন হার কভিড-১৯ মহামারী পূর্ববর্তী সময়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বোয়িং। ২০১৯ সালে প্রতি মাসে ৫২টি ম্যাক্স জেট উৎপাদন করত প্রতিষ্ঠানটি। দুটি বড় দুর্ঘটনা ও মহামারীর কারণে বোয়িংয়ের উৎপাদন অনেকাংশেই কমে গেছে। এ বিষয়ে অবগত দুই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে সূত্রগুলো জানায়, ২০২২ সালের জুনে ৭৩৭ ম্যাক্স জেটের মাসিক উৎপাদন ৩৮-এ উন্নীত করে বোয়িং। ২০২৪ সালের জানুয়ারির মধ্যে ৪২টি এবং জুনের মধ্যে ৪৭টি ম্যাক্স উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে কোম্পানিটি ২০২৫ বা ২০২৬ সালের মধ্যে মাসিক উৎপাদন ৫০টিতে উন্নীত করার কথা জানিয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। বর্তমানে প্রতি মাসে ৩২টি ৭৩৭ ম্যাক্স জেট তৈরি করে বোয়িং। এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের এ বহুজাতিক কোম্পানি।

দুর্ঘটনা ও কভিড-১৯ মহামারীর সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বোয়িংয়ের ম্যাক্স জেটের উৎপাদন বাড়ানো প্রতিষ্ঠান ও এর সিইও স্ট্যান ডিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মার্চে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছিলেন বর্তমানে মাসিক উৎপাদন ৩১ ইউনিট থেকে শিগগিরই বাড়ানো হবে। যদি তা সম্ভব হয় তাহলে ২০১৯ সালের পর প্রথমবারের মতো উৎপাদন হার ৫২-তে উত্তীর্ণ হবে। মূলত সে সময় দুর্ঘটনার কারণে উৎপাদন কমিয়ে ৪২ ইউনিটে নামিয়ে আনা হয়েছিল। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানটি ম্যাক্স জেটের উৎপাদন আরো কমিয়ে দেয়।

২০২৫ সালের জানুয়ারির মধ্যে ৫২টি ম্যাক্স জেট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারলে ৪০ শতাংশ বাজার হিস্যা রক্ষা করতে পারবে বোয়িং। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপিয়ান প্রতিযোগী এয়ারবাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে এ উদ্যোগ নিতেই হবে। কেননা এয়ারবাস তাদের উৎপাদন বাড়িয়েছে।

এয়ারবাস জানায়, প্রতিষ্ঠানটি চীনে নতুন উৎপাদন লাইন শুরু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ প্রতি মাসে ৬৫টি একক আইল জেট উৎপাদনের ব্যাপারে আশাবাদী। ২০২৬ সাল নাগাদ তা ৭৫ ইউনিট ছাড়িয়ে যাবে বলেও আশা সংশ্লিষ্টদের।

এয়ার কনসালট্যান্সির একজন অ্যারোস্পেস বিশ্লেষক মিশেল মেরলুজেউ বলেন, ‘‌বর্তমান প্রেক্ষাপটে বোয়িংয়ের এ উদ্যোগকে কার্যকর মনে হচ্ছে।’

অন্যদিকে অ্যারোডায়নামিক অ্যাডভাইসরিজের অ্যারোস্পেস বিশ্লেষক রিচার্ড আবুলফিয়া বলেন, ‘‌এয়ারবাসের এ৩২১ নিও উড়োজাহাজের বিক্রি যদি বাড়ে, তাহলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বোয়িংয়ের বাজার হিস্যা আরো কমবে।’

তিনি বলেন, ‘‌বর্তমানে প্রতি মাসে ৫২ ইউনিটের বেশি ৭৩৭ ম্যাক্স জেট উৎপাদন করবে না বোয়িং এবং করার আগ্রহও নেই। তবে এয়ারবাস তাদের ৭৫ ইউনিট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে। মূলত এ৩২১নিওর মাধ্যমে এটি সম্ভব হবে।’

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বোয়িংয়ের সরবরাহ চেইনের বর্তমান পরিস্থিতি। প্রতিষ্ঠানটি কর্মী নিয়োগ দেয়া থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ প্রদানে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে মেরলুজেউ জানান, কর্মী নিয়োগের সমস্যা কাটিয়ে উঠছে বোয়িং। ফলে ৭৩৭ ম্যাক্সের উৎপাদন বাড়তে খুব একটা সময় লাগবে না।

বোয়িংয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সরবরাহকারীরা উৎপাদনের বিষয়ে পরিষ্কার ইঙ্গিত পেয়ে থাকে। তবে মেরলুজেউ ও আবুলাফিয়া জানান, বর্তমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে ছোট সরবরাহকারীদের আর্থিকভাবে সুস্থ থাকার বিষয়টি বোয়িংয়ের নিশ্চিত করতে হবে।